পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চার যুবককে হয়রানির অভিযোগ

রবিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:১৭


রইসুল ইমন, পটুয়াখালী::

পটুয়াখালীর বাউফল থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সুজন দেবনাথের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা সহ চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ভুক্তভোগী নিরপরাধ চারজন যুবককে রীতিমতো বাড়ি ছাড়া করে রেখেছেন বলেও জানা গেছে। এএসআই সুজনের মুঠোফোনে চাঁদা দাবি করার একটি অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।

এএসআই সুজন দেবনাথ উপজেলার সদর ইউপির যৌতা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মো. তরিকুল ইসলাম (১৯), বাবুল সরকারের ছেলে আমানুল ইসলাম (১৮), আবুল কালাম মৃধার ছেলে সালেম মৃধা (২৯) ও ওলিপুরা গ্রামের আইয়ুব আলী হাওলাদারের ছেলে নাঈম হাওলাদারের (২১) কাছে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাও এমন একটি মামলা থেকে নাম কাটানোর কথা বলে, যে মামলার এজাহারে তাদের নামই নেই৷

সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২.৩০ মিনিটে উপজেলার বগা ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজ গেটে পুলিশ চেক পোস্টে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক হয় বাউফল সদর ইউপির যৌতা গ্রামের দেরাজ সরদারের ছেলে হাসিব সরদার। এ ঘটনায় হাসিব সরদারকে একমাত্র আসামি করে বাউফল থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করে বগা পুলিশ ফাড়ির এসআই সোহেল খান। যাহার মামলা নং ৩ তারিখ ২ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং।  এ ঘটনার পরের দিন শুক্রবার বাউফল থানা পুলিশের এএসআই সুজন দেবনাথ বাউফলের যৌতা ও ওলিপুরা গ্রামে যায়। গিয়ে ভুক্তভোগী চারজন যুবকের পরিবারকে জানায় ১.৫ কেজী গাঁজার একটি মাদক মামলায় তাদের সন্তানদের নাম আছে। ওরা বাড়ি আসলে যেনো তাকে ডাকানো হয়৷ এরপরে এএসআই সুজনের কথিত সোর্স অপর একটি মাদক মামলার আসামি হাসান সরকার (২২) ও আরিফ হোসেন প্যাদা (২৫) পৃথক ভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে যায় এবং এএসআই সুজনের সাথে রফাদফা করে নাম কাটানোর পরামর্শ দেয়, সুজন দেবনাথ কে প্রতি পরিবার ১৫ হাজার টাকা করে দিলে নাম কাটানো সম্ভব বলে তাদের জানান কথিত সোর্স। পরবর্তীতে এএসআই সুজন নিজে ভুক্তভোগী তরিকুলের মুঠোফোনে ফোন দিয়ে সরাসরি টাকা দাবি করেন এবং তিনি নিজেকে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেন। ওই ভুক্তভোগীর সাথে সুজন দেবনাথের মুঠোফোনে কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আমানুল ইসলামের পিতা বাবুল সরদার বলেন, এএসআই সুজন দেবনাথ আমাকে জানায় আমার ছেলে মাদক মামলার আসামি এবং তিনি সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। বিষয়টি তার (এএসআই সুজন) সাথে মিটমাট না করলে আমার ছেলের নাম কোর্টে নাম চলে যাবে। তিনি আমাকে যে মামলার কথা বলেছেন ওই মামলার কপি তুলে দেখি আমার ছেলে সহ যাদের কথা বলা হয়েছে তাদের কারও নাম মামলায় নেই।

এ বিষয়ে এএসআই সুজন দেবনাথের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, আমার কোন অফিসার কাউকে হয়রানি করতে পারেনা। অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম পর্যবেক্ষণকে বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ সদস্যের অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, বাউফল থানার মামলা নং-৩ তারিখ ২.৯.২০২২ এর তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম। এএসআই সুজন দেবনাথ এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা না।

 

এমএসি/আরএইচ