৫ লাখ টাকায় দফারফা 

পাবনায় ভূল অপারেশনে প্রসুতির মৃত্যু

শনিবার ১৪ মে ২০২২ ১০:৫১


পাবনা প্রতিনিধি ::
পাবনা'র সাঁথিয়ায় চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে শ্যামলী খাতুন (২৩) নামের এক প্রসুতির মৃত্যু ঘটেছে। এ সময় ভুল অপারেশনে নবজাতকও গুরুতর আহত হয়। তবে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় বিষয়টি ৫ লক্ষ টাকায় আপোষ মিমাংশা করা হয় বলে জানা গেছে।  শুক্রবার সকাল ১১টায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা সদরের রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসক আব্দুর রহিম পলাতক রয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া উপজেলার তেতুলিয়া স্বরুপ গ্রামের দিন মজুর খাইরুল ইসলামের স্ত্রী শ্যামলী খাতুন (২৩) প্রসব বেদনা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১টায় সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকের দালালরা তাকে ফুসলিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। শুক্রবার সকাল ৯ টায় ক্লিনিক মালিক ডা. আব্দুর রহিম নিজেই রোগীকে (অ্যানেসথেসিয়া দেন) অজ্ঞান করেন এবং সিজারিয়ান অপারেশন করেন। এতে অধিক রক্ষক্ষরণে অপারেশনের টেবিলেই শ্যামলীর মৃত্যু ঘটে। এ সময় নবজাতকের দেহের বিভিন্ন স্থানে ছুরির আঘাত লাগে। 

পরে রোগীর স্বামীকে ডেকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে পোষ্টমর্টেম না করেই অ্যাস্বুলেন্স ডেকে রোগীর মৃতদেহ বাড়ি পাঠিয়ে দেয় হাসপাতাল কতৃপক্ষ। 

নিহতের স্বামী খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে ডাক্তার ভূল চিকিৎসা করে মেরে ফেলেছেন। এটা আমার  তৃতীয় বাচ্চা । আগের দুটি নরমাল ডেলিভারী হয়েছে। এটাও নরমাল হবে। তাই উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু রুবিয়া ফয়েজের দালালরা ফুসলিয়ে এনে আমার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই’। খাইরুল আরও বলেন, ‘এখন তারা আমাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমি গরীব মানুষ। আমি কি করবো? আছরের নামাজের পর আমি স্ত্রীকে দাফন করেছি’। 

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ওসি আসিফ মুহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ না দেওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তা ছাড়া ইউএনও সাহেব বিষয়টি মিমাংশা করেছেন।   

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে মিমাংশা হয়ে গেছে। ভিকটিমকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ যথাযথ ক্ষতিপুরণ দিতে চেয়েছে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেইনি এবং পোষ্টমর্টেম ছাড়াই দাফনের অনুমতি দিয়েছি। 

এ ব্যাপারে রুবিয়া ফয়েজ ক্লিনিকের মালিক ডা. আব্দুর রহিমের সঙ্গে  ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলেও ফোন রিসিভ করেনি। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, এর আগেও ডা. রহিমের ভুল অপারেশনে ৫ জন রোগী মারা গেছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার ও হাসপাতালের কিছু হয়নি। এ দিকে হাসপাতালে এমন চিকিৎসা ব্যবস্থা ও প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে সাঁথিয়ার সচেতন মহল।

এমএসি/আরএইচ