দ্বাদশের পর ঝড়ে পরছে ৭৫% শিক্ষার্থী

মঙ্গলবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৩০


দেশের চলমান শিক্ষা ব্যাবস্থা, আর্থ সামাজিক অবস্থা, পরিবার, ও রাষ্ট্র এর জন্য দ্বায়ী। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মৌলিক চাহিদা পূরনের ব্যাবস্থা নেই এ দেশে। 

অন্য দেশের শিক্ষার্থীরা অবসর সময়ে যেখানে ছোট ছোট চাকরি করে বেড়ায় সেখানে এদেশে তারা গাঁজা, ইয়াবা আর ফেন্সির আসর বসায়। 
আবার দ্বাদশ শ্রেনী উত্তরনের পর ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পেরেও অনেকে ঝড়ে যায় বা লেখাপড়ার উপর আগ্রহ কমে যায় অনেক শিক্ষার্থীর। 
দেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু করেছে ঠিকই কিন্তু তার পূর্ন স্বীকৃতি দিতে সরকার ব্যার্থ। যদিও ২০১০ এ কারিগরি শিক্ষা আইনে তাদের সম মূল্যায়নের কথা থাকলেও ২০১৩ সালে সে আইন রহিত করে দেয়া হয়েছে। এর পেছনে কারা? বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে শিক্ষিত চোর ডাকাত হওয়া একটা শ্রেনী। তাহলে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে আসবে তারাই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে স্বিকৃতি পাবে। আর প্রায় একই পড়াশনা করে যারা কারিগড়ি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত হবে তারা সমাজের আবর্জনা। কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশে কারিগড়ি শিক্ষার মূল্যায়ন অনেক ক্ষেত্রে সাধারন শিক্ষার চেয়ে অনেক বেশী।
এমনকি কারিগরি শিক্ষার্থীদের বি,এস,সি করার কলেজ গুলোও পর্যায় ক্রমে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 
এগুলো কারা করেছে? এ সমাজ বা দেশেরই শিক্ষিত চোরেরা। তাহলে  ৭৫ শতাংশ ঝড়ে পরাই স্বাভাবিক নয় কি?
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাও বাড়াবেন না আবার অন্য শিক্ষা পদ্ধতির স্বীকৃতিও দেবেন না। তাহলে সমাজে বেকার, চোর, সন্ত্রাস বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
এ দেশের রাজনিতীতে যারা নেতৃত্ব দেয় তাদের ৯০ শতাংশেরই এ ধরনের উঠতি বয়সী সমর্থকদের দরকার হয়। তার জন্যই নেতা নামধারী কুলাঙ্গারদের এসব বিষয়ে দৃষ্টিপাত করার কোন প্রয়োজন নেই বলেই মনে করে। কারন ওদের সন্তানদের তো দেশ থেকে চুরি করা অবৈধ অর্থে বিদেশে পড়াশুনা করিয়ে অধিকাংশই শিক্ষিত অমানুষে পরিনত করে।
যখন মধ্যবিত্ত, নিম্ন বিত্ত, গরীব ঘরের একটি ছেলে/মেয়ে শোনে সে যতই শিক্ষায় শিক্ষিত হোকনা কেন তার চাকরি অনিশ্চিত। কারন, হয়ত অঢেল ঘুষ, মামু খালুর জোর ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন সংসারের প্রয়োজনে সে নেমে পরে জিবিকা নির্বাহের রাস্তায়।
দেশে জনসংখ্যা বেড়েছে চাকরির ক্ষেত্র কয়টা বেড়েছে? উপরন্তু শত শত প্রতিষ্ঠান একের পর এক বন্ধ হয়েছে। প্রতিবেশী বন্ধুুকে সুবিধা করে দিতে গিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষকে বেকার করা হয়েছে। কর্মক্ষেত্র তৈরি নয় বরং আরো শেষ। চাইলে আমরা পারতাম কল কারখানা গুলো আবার উজ্জিবীত করে পন্য উৎপাদন করতে।

দেশের চলমান শিক্ষা ব্যাবস্থায় কাদের ফলো করা হচ্ছে তা যদি আমরা একটু ভাবি তাহলেই যে যার নিজের কাছেই উত্তর পেয়ে যাবো।
একটি মুদ্রা এপিঠ ওপিঠ করে উল্টালে পাল্টালে সেটি ঐ একই মানের মুদ্রাই থেকে যায়। তেমনি এ রাষ্ট্রের সরকার ব্যাবস্থা। যখন যে আসে তখন সে তার ব্যাক্তি স্বার্থ চরিতার্থে ব্যাকুল হয় তার ভেতর দিয়ে জনগনকে  একটু থুঁথুর জলে ভেজায়। 
দেশের জন্য আমি, দেশের জন্য সরকার, জনতার জন্য নেতৃত্ব, জনতার জন্য সরকার তা পরিপূর্ন তো নয়ই অর্ধ শতাংশও কেউ দেখাতে পারল না।

লেখকঃ

রাহাত আহমেদ রেজা

মহাসচিব, ছোট্ট মনুদের জন্য ভালবাসা

 

 

এমএসি/আরএইচ