ঢাকায় বাড়ছে চোখ ওঠা রোগির সংখ্যা

বুধবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫৩


সাইফুল্লাহ, মোহাম্মাদপুর প্রতিনিধিঃ
ঢাকার মোহাম্মাদপুরে বাড়ছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। ডাক্তারি পরিভাষায় এটাকে কনজাংটিভাইটিস বলা হয়। ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় দ্রুত অন্যের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ, এ রোগ হলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিচ্ছেন। যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চোখ ওঠা দেখা দিচ্ছে সে সকল শিক্ষার্থীদের এ রোগটি না সারা পর্যন্ত ছুটি দেয়া হচ্ছে। তবুও রোগটি খুবই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রোগটি। ছোট বড় সবার মাঝে রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ আই হসপিটাল এন্ড ইনিস্টিউটের চিকিৎসক ডা. আশরাফুল হক বলেন- রোগটি এলার্জি জনিত কারণেও হতে পারে তবে এটা কমন একটি রোগ। তবে এ রোগটি দীর্ঘদিন হলে এমনকি এ রোগ থেকে চোখের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন পর্যন্ত যেতে পারে। তিনি আরোও বলেন- রোগটি হলে দ্রুত কোন চিকিৎসকের কাছে চলে যান। কারণ এটি কি কারণে উঠছে তা একমাত্র তিনিই সমাধান করে দিতে পারেন। কোন ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ খাবেন না।
মেডিসিন ও চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত কুমার সাহ বলেন- চোখ ওঠ একটি স্পর্শ কাতর রোগ। চোখ ওঠার মুল কারণ হলো ভাইরাসজনিত এবং এটি অতিমাত্রায় ছোঁয়াছে রোগ। ব্যাকটেরিয়া ও এলার্জির কারণে ও চোখ ওঠে। চোখ ওঠা ব্যক্তির দিকে তাকালে চোখ ওঠে না। ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি তিন দিন বা তিন সপ্তাহ পরে ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে সেটা নির্ভর করে কী ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বা রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কেমন।
চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বার বার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে চোখে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা কনজাংটিভার বলা হয়। আর এখন বৃষ্টির সময় থাকায় এটা খুবই সাধারণ ভাবে হতে পারে, তাই সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
চোখের একেবারে বাইরের স্বচ্ছ অংশটির ডাক্তারি নাম ‘কনজাংকটিভা’। ভাইরাসের সংক্রমণে সেখানে তৈরি হয় প্রদাহ, ফুলে যায় চোখের ছোট ছোট রক্তনালি। ফুলে থাকা রক্তনালিগুলোর কারণেই চোখের রং লালচে হয়ে যায়, যেটাকে চোখ ওঠা বা ‘কনজাংকটিভাইটিস’ বলা হয়।
আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য অংশই শিশু। সাধারণত এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ সেরে যায়। তবে জটিল রূপ ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার্য বস্তু যেমন রুমাল, তোয়ালে, বালিশ, টিস্যু অন্যরা ব্যবহার করলে অন্যরাও এতে আক্রান্ত হয়। এছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে যারা থাকে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রোগটি বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশি ছড়ায় বার বার হাত চোখে দিলে। হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। চোখের পানি সাবধানে টিস্যু দিয়ে মুছে নিতে হবে। ব্যবহার করা সেই টিস্যু সাবধানে নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে। যাতে করে রোগ না ছড়ায়।
চোখ ঘষা বা চুলকানো থেকে বিরত থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে।
একজন থেকে অন্যজনকে এ রোগ থেকে বাচতে রোগীর ব্যবহার করা সামগ্রী অন্যদের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। এক চোখে সমস্যা দেখা দিলে অন্য চোখকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখতে হবে। সমস্যা এক সপ্তাহের মধ্যে না সারলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এমএসি/আরএইচ