টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ৫ বছরের শিশুকে বলাৎকার

সোমবার ২৩ মে ২০২২ ০১:৫৬


ফেরদৌস সিহানুক শান্ত, চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ৫০০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৫ বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে উঠেছে। শনিবার (২১ মে) বিকেল তিনটার দিকে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মল্লিকপুর বাজারের মহানন্দা নদীর ধারে পল্লী চিকিৎসক আক্তার উদ্দিনের ছাদে বলাৎকার করা হয় বলে জানান ওই শিশু। 
অভিযুক্ত রাতুল আলী (১৮) নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সাহালালপুর গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। বলাৎকারের শিকার শিশুর বাড়ি গোমস্তাপুর উপজেলার নয়াদিয়াড়ী গ্রামে৷ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিশু ও তার পরিবার, অভিযুক্ত রাতুলের বাবা ও ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনার পর থেকে গাঁ ঢাকা দিয়েছে রাতুল আলী৷ 
ওই শিশুর মা বলেন, প্রত্যেক শনিবার করে আমার ছেলে মল্লিকপুর হাটে ঘুরতে যায়। গতকালকেও দুপুরের পর হাটে গিয়ে সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরে আসে। বাসায় আসার পর তার সাথে ঘটা ঘটনাটি আমাকে বলে ও ক্ষতস্থান দেখায়। রক্তপাত শুরু হলে রাতেই গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছে।
বলৎকারের শিকার শিশু জানায়, হাটে যাওয়ার পর ওই লোকটির (রাতুল) সাথে আমার দেখা হয়। সে আমাকে মল্লিকপুর বাজারের নদীর ধারের একটি ছাদে নিয়ে যায়। ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে আমার প্যান্ট খুলে খারাপ কাজ করা শুরু করে। অনেকক্ষণ ধরে করার ফলে আমার মলদ্বার দিয়ে রক্ত বের হলে আমি চিৎকার করতে থাকি। কিছুক্ষণ পরে এক লোক আমাকে এসে উদ্ধার করে আমার বাড়িতে পাঠায়। বাড়ি এসে আমার মাকে আমি সবকিছু খুলে বলি।
অভিযুক্ত রাতুল আলীর বাবা তরিকুল ইসলাম রবিবার (২২ মে) বলেন, রাত থেকে আমার ছেলে পলাতক আছে। রাতে আমাকে পুলিশ আটক করেছিল। পরে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশকে সাথে নিয়ে অনেক জায়গায় তাকে খুঁজতে গেছি। কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে যাব। 
মল্লিকপুর বাজারের বাসিন্দা আল-আমীন  ঢাকা মেইলকে জানান, অভিযুক্ত রাতুল আলী ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তার মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। গত ১ বছর আগে বিয়ে করা রাতুল আলী পেশায় ট্রাক্টর চালক। 
ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদির আহম্মেদ ভুলু জানান, শনিবার রাতে আমি ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি স্যতি ন্যাক্কারজনক আমি এর বিচার দাবি করছি যাতে এরকম জঘন্য কাজ আর কেউ না করে । 
 
নাচোল থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) মিন্টু রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বলেন (ভুক্তভোগী শিশু ও পরিবার) এখন হাসপাতাল রয়েছে হাসপাতাল থেকে ফিরলে মামলা দায়ের করা হবে এবং তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে  আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
 

এমএসি/আরএইচ